দেশের কাজ করবেন,ইংরেজ সরকারের বছরে আট লাখ টাকার সরকারি ওকালতির চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন দেশবন্ধু।

নাহিদ হাসান 

তিনি নেতাজীর রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু | আলিপুর বোমা মামলায় ঋষি অরবিন্দের ত্রাতা। ১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা মামলায় বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের উপর রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। চিত্তরঞ্জন দাশ বিনা পারিশ্রমিকে এই মামলায় লড়েন। তখন তাঁর মাসিক আয় ছিল পাঁচ হাজার টাকা। আর এই মামলা পরিচালনা করতে তাঁকে চল্লিশ হাজার টাকা দেনা করতে হয়েছিল। অরবিন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে এই মামলা চলে ১২৬ দিন। দু’শর বেশী সাক্ষীকে জেরা করা হয়। ৪০০০ কাগজপত্র এবং ৫০০ জিনিসপত্র প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয়। চিত্তরঞ্জন দাশ ৯ দিন ধরে তাঁর সওয়াল জওয়াবের সমাপ্তি বক্তব্য দেন । এই মামলায় তিনি যে সওয়াল জওয়াব দেন তা ছিল জ্ঞান ও দেশপ্রেমের অপূর্ব নিদর্শন। বিচারের রায়ে অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পান।বিনা পয়সায় লড়েছিলেন পুরো মামলাটি।এই মামলার পর থেকেই চিত্তরঞ্জন দাশের নাম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে | আয় পৌঁছায় মাসে পঞ্চাশ হাজারের বেশি | অকাতরে সেই টাকা তিনি মানুষের মধ্যে দান করে গিয়েছেন | শুধু তাঁর বাড়ীতেই রোজ দুবেলা একশো একশো – দুশো লোকের খাওয়ার পাত পড়ত। প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে ৯-টা চিত্তরঞ্জন দাশ শুধু ব‍‍্যাংকের চেক কাটতেন, অন‍্যের নামে | ১৯২০ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ ঘোষণা করলেন- তিনি এখন থেকে ব্যারিস্টারী ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করবেন | সকলে স্তম্ভিত .. আজ থেকে একশো বছর আগে আইন ব্যবসা থেকে সেই সময় তাঁর আয় মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা ! আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা বাঁধা দিলেন | কিন্তু চিত্তরঞ্জন দাশ শুনলেন না | ইংরেজ সরকার তাঁকে বছরে আট লাখ টাকার সরকারি ওকালতির চাকরি দিতে চাইলেন,ফিরিয়ে দিলেন দেশবন্ধু | ঝাঁপিয়ে পড়লেন দেশের কাজে | স্ত্রী বাসন্তী দেবী তাঁর পাশে দাঁড়ালেন | দেশের মানুষ তাঁর নাম দিলেন ‘দেশবন্ধু’।
কৃষক নেতা জিতেন ঘোষের রচনা সমগ্রে তিনি লিখেছেন, “দেশবন্ধু (চিত্তরঞ্জন দাশ) ময়মনসিংহ যাবেন। কর্মীরা তাঁকে প্রথম শ্রেণীর কামরায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন শুনে তিনি হেসে বললেন, আমি তো ভাই আর পঞ্চাশ হাজারী ব্যারিস্টার সি আর দাশ নই। কোনো মামলাও পরিচালনা করতে যাচ্ছি না। যাচ্ছি দেশের জনগণের কাছে তাঁদের সেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে। তাঁরা তো তৃতীয় শ্রেণীতেই চড়েন। তোমাদের সাথে আমিও তৃতীয় শ্রেণীতেই যাবো। আমাকে আর আমার দেশের মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিও না। ব্যারিস্টারি জীবনে বহু শিক্ষিত সভ্য ভদ্রের সাথে তো মিশলাম, কিন্তু প্রাণ তো দেখলাম না কোথাও। শান্তিও তো পেলাম না। সবাই তো শো-কেসের প্রাণহীন ছবি। প্রাণ তো জনগণের মধ্যে।’
জিতেন ঘোষ আরো লিখেছেন, ‘তিলক স্বরাজ ফান্ডে টাকা তোলা হচ্ছে। কলকাতার পথে পথে কর্মীরা গান গেয়ে গেয়ে টাকা তুলছেন। প্রশ্ন উঠলো, বেশ্যাপাড়ায় অর্থ সংগ্রহের জন্য যাওয়া যাবে কিনা। এ নিয়ে দারুণ বাকবিতণ্ডা। কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। দেশবন্ধু বললেন, এ নিয়ে তর্ক কেন? বেশ্যা বলে কি তাঁরা বাংলার নারী নন? নন কি পরাধীনা? নিপীড়িতা? অর্থাভাব এবং অমানুষিক সামাজিক উৎপীড়নই তো তাঁদের দেহ-বিপণী সাজাতে এভাবে বাধ্য করেছে। স্বরাজ তো তাই এদেরই জন্য। যে স্বরাজ দেশের অর্থাভাব দূর করবে না, দূর করবে না শোষণ, নির্যাতন, মুক্তি দেবে না পতিত-পতিতাদের, তেমন স্বরাজ এ দেশের মানুষ চান না। আমিও চাইনে। কাল আমি তোমাদের সাথে বেশ্যাপাড়ায় যাবো। পরদিন দেশবন্ধুকে সামনে রেখে একদল কর্মী গান গাইতে গাইতে বেশ্যাপাড়ার কোনো এক দুয়ারের সামনে যেয়ে উপস্থিত হলেন। দুয়ার হতে দেশবন্ধু হাঁক দিলেন, মা-বোনেরা স্বরাজ ফান্ডে ভিক্ষা দাও। এ তো ডাক নয়, যেন যাদুর ধুলা ছুঁড়ে দেয়া হলো। সোনাদানা, টাকাপয়সা যার যা ছিলো সবই এনে বেশ্যা নারীরা দেশবন্ধুর পায়ে উজাড় করে ঢেলে দিলো। তাঁর পায়ে কপাল ঠুকে বলতে লাগলো, বাবা আমাদের কি মুক্তি হবে? দেশবন্ধুর দু’চোখ বেয়ে দরদর করে জলের ধারা নামলো। অপূর্ব দৃশ্য, দেশপ্রেমের জ্বলন্ত নিদর্শন। দেশপ্রেম কারও একচেটিয়া নয়, এ কথাটা বুঝিয়ে দিলেন তিনি”।

চিত্তরঞ্জন দাশ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর, অধুনা বাংলাদেশের বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রামে। বাবা ভুবনমোহন দাশ। মা নিস্তারিণী দেবী। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।চিত্তরঞ্জন দাশের বাবা কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাটর্নী ছিলেন। তিনি উচ্চ সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্বের অধিকারী। রাজনীতি সচেতন ও দাতা স্বভাবের এই মানুষটি সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। চিত্তরঞ্জন দাশ ছোটবেলা থেকেই বাবার গুণগুলো নিজের জীবনে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করেন। চিত্তরঞ্জন দাশের মা নিস্তারিণী দেবী উচ্চ শিক্ষিত না হলেও, তিনি ছিলেন উচ্চমনের অধিকারী। চিত্তরঞ্জন দাশের বাবা দাতা স্বভাবের হওয়ার কারণে তাঁদের পরিবারে একসময় অভাব-অনটন দেখা দেয়।

প্রাথমিক পড়াশুনা শেষ হওয়ার পূর্বে চিত্তরঞ্জন দাশ শৈশবে তাঁর বাবার সাথে কলকাতার ভবানীপুরে চলে আসেন। ১৮৭৯ সালে তিনি ভবানীপুর লন্ডন মিশানারি স্কুলে ভর্তি হন। চিত্তরঞ্জন দাশ শৈশবে বিপিন চন্দ্র পালের সংস্পর্শ আসেন। তাঁর প্রভাবে চিত্তরঞ্জন দাশ দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে উঠেন।

চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৮৬ সালে লন্ডন মিশানারি স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন প্রেসিডেন্সী কলেজে। এই কলেজে পড়ার সময় তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। কলেজ জীবনে তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজের সুরেন্দ্রনাথ প্রবর্তিত স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হন। একপর্যায়ে তিনি এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৮৯০ সালে তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে বি.এ. পাশ করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলেত যান। ১৮৯৩ সালে ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে দেশে ফিরে আসেন এবং আইন পেশা শুরু করেন। পেশা জীবনের শুরুতে তাঁর সামান্য আয় হত। ট্রামভাড়ার সামান্য পয়সা বাঁচানোর জন্য তিনি হাইকোর্ট থেকে ভবানীপুর হেঁটে যেতেন। ১৮৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি বিজনী রাজকোর্টের বরদাপ্রসাদ হাওলাদারের কন্যা বাসন্তী দেবীকে বিয়ে করেন।

 

দেশবন্ধু বুঝেছিলেন ইংরেজদের কূটনৈতিক চালে জড়িয়ে পড়ছে ভারত। ভাগ হয়ে যাচ্ছে হিন্দু মুসলিমে। সম্প্রীতি রক্ষা করতে নেমে পড়েছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। ১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ বাংলার জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেন। বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ঐক্যের আহ্বান সমগ্র বাঙ্গালীকেই প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুখ্য প্রতিনিধি রূপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের লক্ষ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেন যা বাংলার হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এ চুক্তিতে মুসলমান মধ্যবিত্তের অনগ্রসরতা দূর করার বিশদ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্ভবত এ চুক্তির কারণেই ১৯২৩ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আইন সভা নির্বাচনে চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত রাজনৈতিক দল স্বরাজ্য বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে। আর বিজয়ী আইনসভা সদস্যদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় সমান সমান। চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন কলকাতা করপোরেশনের প্রথম মেয়র।

আইন পেশার পাশাপাশি তিনি গোপনে গোপনে বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯০৩ সালে কলকাতায় প্রমথ মিত্র ও চিত্তরঞ্জন দাশ প্রথমে ‘অনুশীলন সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি এই সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। অরবিন্দ ঘোষের ‘বন্দে মাতরম’ পত্রিকার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। আইনজীবী হিসেবে চিত্তরঞ্জন দাশ সিভিল কোর্টের প্রাকটিসের পরিবর্তে ক্রিমিনাল কোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন।গরীব মক্কেলের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতেন না। ১৯০৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা প্রতিনিধি নির্বাচিত হন তিনি।

 

১৯১০ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ ‘ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা’ পরিচালনা করেন। এই মামলার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার অনুশীলন সমিতির প্রধান পুলিন বিহারী দাশ এবং সঙ্গীদেরকে নির্বাসন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু চিত্তরঞ্জন দাশ এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করেন। তাঁর আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে ৬ মাসের শাস্তি এবং ৩৩ জনের মধ্যে ১১ জনের তুলনামূলক কম শাস্তি হয়েছিল।

১৯১৮ সালে ‘আলিপুর ট্রাঙ্ক মার্ডার কেস’ মামলা থেকে তিনি পাঁচ জন ব্যক্তিকে মুক্ত করেন। ওই বছর চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হল ‘অমৃতবাজার পত্রিকা মামলা’। কলকাতা হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ অভিমত প্রকাশ করে যে, কলকাতা উন্নয়ন ট্রাস্ট কোনো ব্যক্তিগত জমি রাখতে পারবে না। একই সময় হাইকোর্টে অন্য একজন বিচারক রায় দেন যে, কলকাতা উন্নয়ন ট্রাস্ট সেই ক্ষমতা রাখে। কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকা অমৃতবাজার এ ব্যাপারে মন্তব্য করে সম্পাদকীয় ছাপে। পত্রিকাটি স্পেশাল বেঞ্চের গঠন সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে। এই অবস্থায় প্রধান বিচারপতি অমৃতবাজারকে শোকজ করেন এবং আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ তখনকার কলকাতা বারের প্রখ্যাত আইনজীবীদের নিযুক্ত করে। মি. জ্যাকসন, মি. নরটন, ব্যোমকেশ চক্রবর্ত্তী এবং চিত্তরঞ্জন দাশ এই মামলায় নিযুক্ত হন। কিন্তু পরবর্তিতে একমাত্র চিত্তরঞ্জন দাশ ছাড়া আর কেউই মামলা পরিচালনা করার জন্য ছিলেন না। তিনি একাই অমৃতবাজার পত্রিকার পক্ষে লড়েন এবং বিচারকদের রায় চিত্তরঞ্জন দাশের পক্ষে অর্থাৎ অমৃতবাজার পত্রিকার পক্ষে যায়।

ব্রিটিশের নানা টালবাহানার পর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের জন্য সর্ব-ভারতীয় কংগ্রেস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, সদস্য ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ, মতিলাল নেহেরু, আব্বাস তৈয়্যবজী এবং ড. জাকির হোসেন। তদন্ত কমিটির অধিকাংশ খরচ বহন করেন চিত্তরঞ্জন দাশ।

১৯২১ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্যে দেশবন্ধু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরের বছর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গয়া কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করেন। কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় তিনি ১৯২২ সালে কংগ্রেসের সভাপতিত্ব ত্যাগ করেন। এরপর তিনি স্বরাজ্য দল গঠন করেন। মতিলাল নেহেরু এবং দেশবন্ধুর নেতৃত্বে এই দল ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।

১৯২৪ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার ‘১ নং বেঙ্গল অর্ডিনান্স’ নামে এক জরুরি আইন পাশ করে। তখন চিত্তরঞ্জন দাশ নিজ বাড়িতে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির বৈঠকের আহ্বান করেন। গান্ধীজী উপলব্ধি করেন স্বরাজ্য দলকে দমনের জন্যেই এই অর্ডিন্যান্স পাশ করা হয়েছে। এরপর থেকে গান্ধীজী দেশবন্ধুকে অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালে পরপর দুবার মেয়র নির্বাচিত হন।

রাজনীতির মধ্যে থেকেও তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করতেন। সে সময়ের বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘নারায়ণ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। ‘মালঞ্চ’, ‘সাগর সঙ্গীত’ ও ‘অন্তর্যামী’ গ্রন্থের জন্য তিনি কবি ও লেখক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৫ সালের ১৬ জুন, দার্জিলিংয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর পৈতৃক বসতবাড়িটি জনসাধারণের জন্য দান করে যান। সেখানে ‘চিত্তরঞ্জন সেবাসদন’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাঁর প্রয়াণ সংবাদে শোকার্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সম্বন্ধে বলেনঃ
“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ।
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।। ”

তথ্য : উইকিপিডিয়া,বাংলাপিডিয়া,জিতেন ঘোষের রচনা সমগ্র